হোম আমাদের সম্পর্কে জেলা বিচার বিভাগের ইতিহাস
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮০৭ সালে বরিশালের জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসেন মিঃ বেটি। দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন কেটে বসত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেটির শাসন আমলেই ১৮১২ সালে পটুয়াখালীকে নিয়ে গঠন করা হয় মির্জাগঞ্জ থানা। পরবর্তীতে দেওয়ানী শাসন প্রসারের জন্য ১৮১৭ সালে বরিশালে স্থাপন করা হয় পৃথক ৪টি মুন্সেফী চৌকি। এগুলো হলো বাউফল, কাউখালী, মেহেন্দিগঞ্জ ও কোটের হাট চৌকি। বাউফল চৌকির প্রথম মুন্সেফ হয়ে আসেন ব্রজমোহন দত্ত। ১৮৬০ সালের ১ জুন বাউফল থেকে চৌকি স্থানান্তর করা হয় লাউকাঠীতে। ব্রজ মোহন দত্ত লাউকাঠী চৌকিরও মুন্সেফ ছিলেন। ১৮৭১ সালে পটুয়াখালী মহকুমায় রূপান্তরিত হয়। প্রথমে বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘরে কোর্ট বসে বলে স্থানীয় লোকজন একে বলত বাউশশা কোর্ট। তখন ব্রজ মোহন দত্ত মুন্সেফ ও ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট দুই পদেই অধিষ্ঠিত হন। নতুন মহকুমার নাম হয় পটুয়াখালী। পার হয়ে গেল এক শতাব্দী।
একই সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের বিরল দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের সাগরকন্যা উপাধি নিয়ে ১৮তম জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী। ১৯৬৯ সালের ৯ মার্চ পটুয়াখালী জেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস এডমিরাল এস. এম আহসান। প্রথম জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপিত হয় ১৯৬৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এবং একই তারিখে জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে যোগদান করেন জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন। পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ পর্যন্ত ৩৪ জন জেলা ও দায়রা জজ কর্মরত ছিলেন। বর্তমান জেলা ও দায়রা জজ জনাব রোখসানা পারভীন যোগদান করেন ২০১৯ সালের ২ মার্চ। মেঘনা নদীর অববাহিকায় গঠিত পটুয়াখালী জেলা সদর চতুর্দিকে নদী দিয়ে বিভক্ত থাকায় জেলাটিতে রয়েছে দেশের অন্যতম সর্বাধিক ৫টি চৌকি আদালত, যা বিচার প্রার্থী মানুষের সেবা প্রাপ্তিতে এনে দিয়েছে সহজলভ্যতা। পটুয়াখালী জেলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১টি, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১টি, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৩টি, সহকারী জজ আদালত ৬টি। প্রশাসনিক উপজেলা পটুয়াখালী সদর, বাউফল, কলাপাড়া, গলাচিপা, মির্জাগঞ্জ, দশমিনা, দুমকী ও রাঙ্গাবালী মোট ৮টি হলেও দুমকী ও রাঙ্গাবালীর জন্য ভিন্ন কোন সহকারী জজ আদালত নাই। কলাপাড়া সহকারী জজ আদালত জেলা সৃষ্টি লগ্ন থেকেই চৌকি আদালত হিসাবে বিদ্যমান। পটুয়াখালী জেলায় ২টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যার প্রথম বিচারক ছিলেন জনাব আমিনুল ইসলাম। এ পর্যন্ত ১০ জন বিচারক কর্মরত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ মাইনুল হক বিগত ইং ০৯/০২/২০২০ তারিখে যোগদান করে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসাবে কর্মরত আছেন। বিশেষ জেলা জজ আদালত সৃষ্টি হয় ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যার প্রথম বিচারক ছিলেন জনাব মিয়া মোঃ শরীফ হোসেন। এ পর্যন্ত ১২ জন বিচারক কর্মরত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ জনাব আবু নাসের মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিগত ইং ০২/১০/২০১৯ তারিখে যোগদান করে বর্তমানে আদালতের বিচারক হিসাবে কর্মরত আছেন। পটুয়াখালীতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঐতিহাসিক বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন কাজী গোলাম সারওয়ার। এ পর্যন্ত ৭ জন বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন বিগত ২০১৮ সালের ৩০ মে যোগদান করে অদ্যবধি কর্মরত আছেন। পটুয়াখালীতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১টি, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১টি, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২টি পটুয়াখালী সদর এবং বাউফল, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১টি দুমকী -জেলা শহরে অবস্থিত। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অধিনে ৪টি উপজেলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালত রয়েছে। যেগুলো কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দশমিনা ও গলাচিপায় অবস্থিত এবং উক্ত আদালত সমূহের কার্যক্রম বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তারিখ থেকে শুরু হয়। পটুয়াখালী জেলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।